স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani PDF in Bengali

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani Bengali PDF Download

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani in Bengali PDF download link is given at the bottom of this article. You can direct download PDF of স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani in Bengali for free using the download button.

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani Bengali PDF Summary

Dear readers, today we are going to share, স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF / Swami Vivekananda Bani PDF in Bengali for all of you. Swami Vivekananda was one of the most famous Indian Hindu monks, philosophers and authors. Along with this, he was also known as a religious teacher and the chief disciple of the Indian mystic Ramakrishna.

Swami Vivekanand was born on 12 January 1863 in Calcutta, Bengal presidency in British India and died on 4 July 1902 in Belur Math, British India. Swami Vivekananda’s real name was Narendranath Datta, and he was also known as Satchidananda and Vividishananda.

The name Vivekananda was given to him by Raja Ajit Singh of Khetri in the Shekhawati region of Rajasthan. Here in this article, we have provided Swami Vivekananda Bani in pdf format for those who are also searching for it on the internet. The given information will be very valuable for every person.

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani in Bengali PDF

নাম স্বামী বিবেকানন্দ
শৈশবের নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত
কে ছিলেন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ এবং রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য।
বাবার নাম বিশ্বনাথ দত্ত
মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী
গুরুর নাম রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব
জন্ম তারিখ ১২-ই জানুয়ারি, ১৮৬৩
জন্ম স্থান উত্তর কলকাতা
শিক্ষা সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও শিল্পকলা বিষয়ের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল।
বিদ্যালয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা
জাতীয়তা ভারতীয়
ধর্ম হিন্দু ধর্ম
জাতি বাঙালি
প্রভাবিত করেছেন মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল নেহেরু, নিকোলা টেসলা, ও প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইত্যাদি।
মৃত্যু ৪-ঠা জুলাই, ১৯০২

স্বামী বিবেকানন্দ বাণী বাংলা PDF

অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে। তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্।

অর্থাৎ যারা আর কারও ওপর নির্ভর না ক’রে কেবল আমার ওপর নির্ভর ক’রে থাকে,তাদের যা কিছু দরকার,সব আমি যুগিয়ে দিই। ভগবানের এ কথাটা তো আর স্বপ্ন বা কবিকল্পনা নয়।

নৈক সংস্কৃত কবি বলিয়াছেন-‘ন গৃহং গৃহমিত্যাহুর্গৃহিণী গৃহমুচ্যতে’—গৃহকে গৃহ বলে না,গৃহিণীকেই গৃহ বলা হয়,ইহা কত সত্য! যে গৃহছাদ তোমায় শীত গ্রীষ্ম বর্ষা হইতে রক্ষা করিয়া থাকে,তাহার দোষগুণ বিচার করিতে হইলে উহা যে স্তম্ভগুলির উপর দাঁড়াইয়া আছে,তাহা দেখিলে চলিবে না—হউক না সেগুলি অতি মনোহর কারুকার্যময় ‘করিন্থিয়ান’স্তম্ভ।

বহুরূপে সম্মুখে তোমার,ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর ?
জীবে প্রেম করে যেইজন,সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।

বড় হইতে গেলে কোন জাতির বা ব্যক্তির পক্ষে তিনটি বস্তুর প্রয়োজনঃ

(১) সাধুতার শক্তিতে প্রগাঢ় বিশ্বাস।

(২) হিংসা ও সন্দিগ্ধভাবের একান্ত অভাব।

(৩) যাহারা সৎ হইতে কিংবা সৎ করিতে সচেষ্ট,তাহাদিগের সহায়তা।

হে যুবকবৃন্দ,দরিদ্র অজ্ঞ ও নিপীড়িত জনগণের ব্যথা তোমরা প্রাণে প্রাণে অনুভব কর,সেই অনুভবের বেদনায় তোমাদের হৃদয়ে রুদ্ধ হউক,মষ্তিষ্ক ঘুরিতে থাকুক,তোমাদের পাগল হইয়া যাইবার উপক্রম হউক। তখন গিয়া ভগবানের পাদপদ্মে তোমাদের অন্তরের বেদনা জানাও। তবেই তাহার নিকট হইতে শক্তিও সাহায্য আসিবে—অদম্য উৎসাহ,অনন্ত শক্তি আসিবে।

অন্ন! অন্ন! যে ভগবান এখানে আমাকে অন্ন দিতে পারেন না তিনি যে আমাকে স্বর্গে অনন্ত সুখে রাখিবেন—ইহা আমি বিশ্বাস করি না।

মি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি,মানুষকে বিশ্বাস করি;দুঃখী দরিদ্রকে সাহায্য করা,পরের সেবার জন্য নরকে যাইতে প্রস্তুত হওয়া—আমি খুব বড় কাজ বলিয়া বিশ্বাস করি।

জতিভেদ থাকুক বা নাই থাকুক,কোন মতবাদ প্রচলিত থাকুক বা নাই থাকুক,যে-কোন ব্যক্তি,শ্রেণী,বর্ণ,জাতি বা সম্প্রদায় যদি অপর কোন ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তার ও কার্যের শক্তিতে বাধা দেয় (অবশ্য যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ শক্তি কাহারও অনিষ্ট না করে) তাহা অতি অন্যায়,এবং যে ঐরূপ করে—তাহার পতন অবশ্যম্ভাবী।

তোমরা সকলে ভাবো—‘আমরা অনন্ত বলশালী আত্মা;দেখ দিকি কি বল বেরোয়। ‘দীনহীনা!’কিসের ‘দীনহীনা’? আমি ব্রহ্মময়ীর বেটা! কিসের রোগ,কিসের ভয়,কিসের অভাব? ‘দীনহীনা’ভাবকে কুলোর বাতাস দিয়ে বিদেয় কর দিকি।

তোমাদের কি মন মুখ এক হয়েছে? তোমরা কি মৃত্যুভয় পর্যন্ত তুচ্ছ ক’রে নিঃস্বার্থভাবে থাকতে পার? তোমাদের হৃদয়ে প্রেম আছে তো? যদি এইগুলি তোমাদের থাকে তবে তোমাদের কোন কিছুকে,এমন কি মৃত্যুকে পর্যন্ত ভয় করবার দরকার নেই। এগিয়ে যাও,বৎসগণ। সমগ্র জগৎ জ্ঞানালোক চাইছে—উৎসুক নয়নে তার জন্য আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বলিতেছি,হিন্দুসমাজের উন্নতির জন্য ধর্মকে নষ্ট করিবার কোন প্রয়োজন নাই এবং ধর্মের জন্যেই যে সমাজের এই অবস্থা তাহা নহে,বরং ধর্মকে সামাজিক ব্যাপারে যেভাবে কাজে লাগানো উচিত,তাহা হয় নাই বলিয়াই সমাজের এই অবস্থা।

কেউ তোমাকে বলবে সাধু,কেউ বলবে চণ্ডাল,কেউ বলবে উন্মাদ,কেউ বলবে দানব,কোনদিকে না তাকিয়ে নিজের পথে চলে যাও,’—এই কথা বলেছিলেন বার্ধক্যে সন্ন্যাসগ্রহণকারী রাজা ভর্তৃহরি—ভারতের একজন প্রাচীন সম্রাট ও মহান্ সন্ন্যাসী।

কোন ধর্মকে ফলপ্রসূ করতে হ’লে তাই নিয়ে একেবারে মেতে যাওযা দরকার;অথচ যাতে সঙ্কীর্ণ সাম্প্রদায়িক ভাব না আসে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

জগতে যদি কিছু পাপ থাকে,তবে দুর্বলতাই সেই পাপ। সর্বপ্রকার দুর্বলতা ত্যাগ কর—দুর্বলতাই মৃত্যু,দুর্বলতাই পাপ।

হে মহাপ্রাণ,ওঠ জাগো ! জগৎ দুঃখে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে—তোমার কি নিদ্রা সাজে?

হিন্দু যেন কখন তাহার ধর্ম ত্যাগ না করে। তবে ধর্মকে উহার নির্দিষ্ট সীমার ভিতর রাখিতে হইবে,আর সমাজকে উন্নতির স্বাধীনতা দিতে হইবে।

যে দেশে কোটি কোটি মানুষ মহুয়ার ফুল খেয়ে থাকে,আর দশবিশ লাখ সাধু আর ক্রোর দশেক ব্রাহ্মণ ঐ গরীবদের রক্ত চুষে খায়,আর তাদের উন্নতির কোনও চেষ্টা করে না,সে কি দেশ না নরক! সে ধর্ম,না পৈশাচ নৃত্য! দাদা,এটি তলিয়ে বোঝ—ভারতবর্ষ ঘুরে ঘুরে দেখেছি। এ দেশ দেখেছি। কারণ বিনা কার্য হয় কি? পাপ বিনা সাজা মিলে কি?

যে ধর্ম বা যে ঈশ্বর বিধবার অশ্রুমোচন করিতে পারে না অথবা অনাথ শিশুর মুখে একমুঠো খাবার দিতে পারে না,আমি সে ধর্মে বা সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না। যত উচ্চ মতবাদ হউক,যত সুবিন্যস্ত দার্শনিক তত্ত্বই উহাতে থাকুক,যতক্ষণ উহা মত বা পুস্তকেই আবদ্ধ,ততক্ষণ উহাকে আমি ধর্ম নাম দিই না। চক্ষু আমাদের পৃষ্ঠের দিকে নয়,সামনের দিকে-অতএব সম্মুখে অগ্রসর হও,আর যে ধর্মকে তোমরা নিজের ধর্ম বলিয়া গৌরব কর,তাহার উপদেশগুলিু কার্যে পরিণত কর-ঈশ্বর তোমাদিগের সাহায্য করুন।

একটি কথা—মহাপুরুষেরা বিশেষ শিক্ষা দিতে আসেন,নামের জন্যে নহে,কিন্তু চেলারা তাঁদের উপদেশ বানের জ্বলে ভাসাইয়া নামের জন্য মারামারি করে—এই তো পৃথিবীর ইতিহাস।

জীবনটা ক্ষণস্থায়ী স্বপ্নমাত্র,যৌবন ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়;দিবারাত্র বল,’তুমি আমার পিতা,মাতা,স্বামী,দয়িত,প্রভু, ঈশ্বর—আমি তোমা ছাড়া আর কিছু চাই না,আর কিছুই চাই না,আর কিছুই না। তুমি আমাতে,আমি তোমাতে—আমি তুমি,তুমি আমি।’ধন চলে যায়,সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যায়,জীবন দ্রুতগতিতে চলে যায়,শক্তি লোপ পেয়ে যায়,কিন্তু প্রভু চিরদিনই থাকেন—প্রেম চিরদিনই থাকে।

ইচ্ছা শক্তিই জগতকে পরিচালিত করিয়া থাকে।

ঈশ্বরই তাঁহার সন্তানগণকে সমুদ্রগর্ভে রক্ষা করিয়া থাকেন!

তোর দুয়ারে স্বয়ং নারায়ন কাঙ্গালবেশে এসে অনাহারে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে রয়েছেন,তাঁকে না দিয়ে খালি নিজে ও নিজের স্ত্রী পুত্রদেরই নানাপ্রকার চর্ব-চূষ্য দিয়ে পূর্তি করা-সে তো পশুর কাজ।

আপানার ভাল কেবল পরের ভালয় হয়,আপনার মুক্তি এবং ভক্তিও পরের মুক্তি ও ভক্তিতে হয়—তাইতে লেগে যাও,মেতে যাও,উন্মাদ হয়ে যাও। ঠাকুর যেমন তোমাদের ভালবাসতেন,আমি যেমন তোমাদের ভালোবাসি,তোমারা তেমনি জগৎকে ভালবাস দেখি ।

এস,মানুষ হও। নিজেদের সংকীর্ণ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে বাইরে গিয়ে দেখ,সব জাতি কেমন উন্নতির পথে চলেছে। তোমরা কি মানুষকে ভালবাসো? তোমরা কি দেশকে ভালবাসো? তাহলে এস,আমরা ভাল হবার জন্য—উন্নত হবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করি।

ধৈর্য,পবিত্রতা ও অধ্যবসায়ের জয় হবে।

নিরাশ হইও না। স্মরণ রাখিও,ভগবান গীতায় বলিতেছেন,‘কর্মে তোমার অধিকার,ফলে নয়।’

দৃঢ়ভাবে কার্য করিয়া যাও,অবিচলিত অধ্যবসায়শীল হও এবং প্রভুর উপর বিশ্বাস রাখো।

ধীর,নিস্তব্ধ অথচ দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে। খবরের কাগজে হুজুক করা নয়। সর্বদা মনে রাখবে,নামযশ আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

পবিত্রতা,সহিষ্ণুতা ও অধ্যবসায়—এই তিনটি,সর্বোপরি প্রেম সিদ্ধিলাভের জন্য একান্ত আবশ্যক।

ভগবান যদিও সর্বত্র আছে বটে,কিন্তু তাঁকে আমরা জানতে পারি কেবল মানবচরিত্রের মধ্য দিয়ে।

কারও ওপর হুকুম চালাবার চেষ্টা ক’রো না—যে অপরের সেবা করতে পারে,সেই যথার্থ সর্দার হ’তে পারে।

কার্যক্ষেত্রে অবতরণ কর। কুড়েমির কাজ নয়। ঈর্ষা অহমিকাভাব গঙ্গার জলে জন্মের মতো বিসর্জন দাও ও মহাবলে কাজে লাগিয়া যাও। বাকি প্রভু সব পথ দেখাইয়া দিবেন। মহা বন্যায় সমস্ত পৃথিবী ভাসিয়া যাইবে।

তিনি সকলেরই হৃদয়ে বিরাজ করিতেছেন। যদি দর্পণের উপর ধূলি ও ময়লা থাকে,তবে তাহাতে আমরা

তুমি তোমার কাজ ক’রে যাও,আর মনে রেখো—‘ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিত দুর্গতিং তাত গচ্ছতি।’

দাদা,এ সব লিখিবার নহে,বলিবার নহে। আমার পত্র অন্য কেউ যেন না পড়ে,তোমরা ছাড়া। হাল ছেড় না,টিপে ধরে থেক—পাকড় ঠিক বটে,তাতে আর ভুল নাই—তবে পারে যাওয়া আজ আর কাল—এই মাত্র। দাদা, leader (নেতা) কি বানাতে পারা যায়?Leader জন্মায়। বুঝতে পারলে কিনা? লিডারি করা আবার বড় শক্ত—দিসস্য দাসঃ,হাজারো লোকের মন যোগানো।

Jealousy, selfishness(ঈর্ষা,স্বার্থপরতা ) আদপে থাকবে না—তবে leader.প্রথম by birth (জন্মগত),দ্বিতীয় unselfish(নিঃস্বার্থ ),তবে leader. সব ঠিক হচ্ছে,সদ ঠিক আসবে,তিনি ঠিক জাল ফেলছেন,ঠিক জাল গুটাচ্ছেন—বয়মনুসরামঃ,বয়মনুসরামঃ,প্রীতিঃ পরমসাধনম্ বুঝলে কি না? Love conquers in the long run, দিক্ হলে চলবে না—wait, wait (অপেক্ষা কর,অপেক্ষা কর);সবুরে মেওয়া ফলবেই ফলবে। যোগেনের কথা কিছুই লেখ নাই। রাখাল-রাজা ঘুরে ফিরে পুনর্বৃন্দাবনং গচ্ছেদিতি।…

হে বীরহৃদয় যুবকগণ,তোমরা বিশ্বাস কর যে,তোমরা বড় বড় কাজ করবার জন্য জন্মেছ। কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাকে ভয় পেও না—এমন কি আকাশ থেকে প্রবল বজ্রাঘাত হলেও ভয় পেও না—খাড়া হয়ে ওঠ,ওঠ,কাজ কর।

হে ভ্রাতৃবৃন্দ,আমাদের সকলকেই এখন কঠোর পরিশ্রম করিতে হইবে,এখন ঘুমাইবার সময় নহে। আমাদের কার্যকলাপের উপরই ভারতের ভবিষ্যত নির্ভর করিতেছে ঐ দেখ,ভারতমাতা ধীরে ধীরে নয়ন উন্মীলন করিতেছেন। তিনি কিছুকাল নিদ্রিত ছিলেন মাত্র। উঠ,তাহাকে জাগাও—আর নূতন জাগরনে নূতন প্রাণে পূর্বাপেক্ষা অধিকতর গৌরবমণ্ডিতা করিয়া ভক্তিভাবে তাঁহাকে তাঁহার শাশ্বত সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত কর।

আমার ধারণা,বেদান্ত —কেবল বেদান্তই সার্বভৌম ধর্ম হইতে পারে,আর কোন ধর্মই নয়।

আমাদের বিশ্বাস—সব প্রাণীই ব্রহ্মস্বরূপ। প্রত্যেক আত্মাই যেন মেঘে ঢাকা সূর্যের মতো;একজনের সঙ্গে আর একজনের তফাত কেবল এই—কোথাও সূর্যের উপর মেঘের আবরণ ঘন,কোথাও এই আবরণ একটু পাতলা;আমাদের বিশ্বাস-জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে ইহা সকল ধর্মেরই ভিত্তিস্বরূপ;আর শারীরিক,মানসিক বা আধ্যাত্মিক স্তরে মানবের উন্নতির সমগ্র ইতিহাসের সার কথাটাই এই-এক আত্মাই বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে আপনাকে প্রকাশ করছেন।

আমাদের দেশের শতকরা নব্বই জনই অশিক্ষিত,অথচ কে তাহাদের বিষয় চিন্তা করে?এইসকল বাবুর দল কিংবা তথাকথিত দেশহিতৈষীর দল কি?

আজকাল লোকে ‘যোগ্যতমের উদবর্তন'(Survival of the fittest)—রূপ নূতন মতবাদ লইয়া অনেক কথা বলিয়া থাকে। তাহারা মনে করে—যাহার গায়ের জোর যত বেশী,সেই তত অধিক দিন জীবিত থাকিবে। যদি তাহাই সত্য হইত,তবে প্রাচীনকালের যে-সকল জাতি কেবল অন্যান্য জাতির সহিত যুদ্ধ—বিগ্রহে কাটাইয়াছে,তাহারাই মহাগৌরবের সহিত আজও জীবিত থাকিত এবং এই হিন্দুজাতি,যাহারা অপর একটি জাতিকে জয় করে নাই,তাহারাই এতদিন বিনষ্ট হইয়া যাইত।

জনৈকা ইংরেজ মহিলা আমাকে এক সময় বলেন,হিন্দুরা কি করিয়াছে? তাহারা কোন একটা জাতিকেও জয় করিতে পারে নাই! পরন্তু এই জাতি এখনও ত্রিশকোটি প্রাণী লইয়া সদর্পে জীবিত রহিয়াছে! আর ইহা সত্য নহে যে,উহার সমুদয় শক্তি নিঃশেষিত হইয়াছে;ইহাও কখনো সত্য নহে যে,এই জাতির শরীর পুষ্টির অভাবে ক্ষয় পাইতেছে। এই জাতির এখনও যথেষ্ট শক্তি রহিয়াছে। যখনই উপযুক্ত সময় আসে,যখনই প্রয়োজন হয়,তখনই এই জীবনীশক্তি মহাবন্যার মতো প্রবাহিত হইয়া থাকে।

ঈশ্বরের অন্বেষণে কোথায় যাইতেছ? দরিদ্র,দুঃখী,দুর্বল—সকলেই কি তোমার ঈশ্বর নহে? অগ্রে তাহাদের উপাসনা কর না কেন? গঙ্গাতীরে বাস করিয়া কূপ খনন করিতেছ কেন? প্রেমের সর্বশক্তিমত্তায় বিশ্বাস কর।

এই কথা মনে রেখো—দুটো চোখ,দুটো কান,কিন্তু একটা মুখ। উপেক্ষা উপেক্ষা,উপেক্ষা। ‘ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিৎ দুর্গাতিং তাত গচ্ছতি’।

এই জগতে ধনের সন্ধান করিতে গিয়া তোমাকেই শ্রেষ্ঠ রত্নরূপে পাইয়াছি;হে প্রভু,তোমারই নিকট আমি নিজেকে বলি দিলাম ।’‘ভালবাসার পাত্র খুঁজিতে গিয়া একমাত্র তোমাকেই ভালবাসার পাত্র পাইয়াছি। আমি তোমারই নিকট আমি নিজেকে বলি দিলাম’। (যজুর্বেদ সংহিতা )

সাধুতাই শ্রেষ্ঠ নীতি,এবং পরিণামে ধার্মিক লোকের জয় হইবেই। …বংস,সর্বদা মনে রাখিও আমি যতই ব্যস্ত,যতই দূরে অথবা যত উচ্চপদস্থ লোকের সঙ্গেই থাকি না কেন, আমি সর্বদাই আমার বন্ধুবর্গের প্রত্যেকের, সর্বাপেক্ষা সামান্যপদস্থ ব্যক্তির জন্যও প্রার্থনা করিতেছি এবং তাহাকে স্মরণ রাখিতেছি।

সাবধান! আমাদের মধ্যে যাহাতে কিছুমাত্র অসত্য প্রবেশ না করে। সত্যকে ধরিয়া থাকো,আমার নিশ্চয় কৃতকার্য হইবে। হইতে পারে বিলম্বে,কিন্তু নিশ্চিত কৃতকার্য হইব,এ সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই। কাজ করিয়া যাও। মনে কর,আমি জীবিত নাই। এই মনে করিয়া কাজে লাগো যেন তোমাদের প্রত্যেকের উপর সমুদয় কাজের ভার। ভাবী পঞ্চাশ শতাব্দী তোমাদের দিকে চাহিয়া আছে। ভারতের ভবিষ্যৎ তোমাদের উপর নির্ভর করিতেছে। কাজ করিয়া যাও ।

কার্যসিদ্ধর জন্য আমার ছেলেদের আগুনে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন কেবল কাজ,কাজ,কাজ-বছর কতক বাদে স্থির হয়ে কে কতদূর করলে মিলিয়ে তুলনা ক’রে দেখা যাবে। ধৈর্য’অধ্যবসায় ও পবিত্রতা চাই ।

কি কারণে হিন্দুজাতি তাহার অদ্ভুত বুদ্ধি এবং অন্যান্য গুণাবলী সত্ত্বেও ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হইয়া গেল? আমি বলি,হিংসা। এই দুর্ভাগা হিন্দুজাতি পরস্পরের প্রতি যেরূপ জঘন্যভাবে ঈর্ষান্বিত এবং পরস্পরের যশখ্যাতিতে যেভাবে হিংসাপরায়ণ,তাহা কোন কালে কোথাও দেখা যায় নাই।

আমার লক্ষ্য কেবল ভেতরের আত্মতত্ত্বের দিকে;সেইটি যদি ঠিক হয়ে যায়,তবে আর সবই ঠিক হয়ে যাবে—এই আমার মত।

আমি চাই,যেন আমাদের মধ্যে কোনরূপ কপটতা,কোনরূপ লুকোচুরি ভাব,কোনরূপ দুষ্টামি না থাকে। আমি বরাবরই প্রভুর উপর নির্ভর করিয়াছি,দিবালোকের ন্যায় উজ্জ্বল সত্যের উপর নির্ভর করিয়াছি। আমার বিবেকের উপর এই কলঙ্ক লইয়া যেন মরিতে না হয় যে,আমি নামের জন্য,এমন কি,পরের উপকার করিবার জন্য লোকোচুরি খেলিয়াছি। এক বিন্দু দুর্নীতি,বদ মতলবের একবিন্দু দাগ পর্যন্ত যেন না থাকে ।

কাজ চিরকালই ধীরে ধীরে হয়ে এসেছে,চিরকালই ধীরে হবে;এখন ফলাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ ক’রে শুধু কাজ করেই খুশী থাকো; সর্বোপরি,পবিত্র ও দৃঢ়-চিত্ত হও এবং মনে প্রাণে অকপট হও—ভাবের ঘরে যেন এতটুকু চুরি না থাকে,তা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

পাহাড় যদি মহম্মদের নিকট না যায়,মহম্মদ পাহাড়ের নিকট যাবেন। অর্থাৎ গরীবের ছেলেরা যদি স্কুলে লেখাপড়া শিখতে না পারে,বাড়ী বাড়ী গিয়ে তাদের শিখাতে হবে।

র্ণত্বলাভের পথ এই যে,নিজে ঐরূপ চেষ্টা করতে হবে এবং অন্যান্য স্ত্রী-পুরুষ যারা সচেষ্ট তাদের যথাশক্তি সাহায্য করতে হবে।

প্রত্যেক দাসজাতির মূল পাপ হচ্ছে ঈর্ষা। আবার এই ঈর্ষা দ্বেষ ও সহযোগিতার অভাবই এই দাসত্বকে চিরস্থায়ী ক’রে রাখে। ভারতের বাইরে না এলে আমার এ মন্তব্যের মর্ম বুঝবে না।

To স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF / Swami Vivekananda Bani in Bengali PDF Download you can click on the following download button.

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani pdf

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani PDF Download Link

REPORT THISIf the download link of স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani PDF is not working or you feel any other problem with it, please Leave a Comment / Feedback. If স্বামী বিবেকানন্দের বাণী PDF | Swami Vivekananda Bani is a copyright material Report This. We will not be providing its PDF or any source for downloading at any cost.

RELATED PDF FILES

Leave a Reply

Your email address will not be published.